‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ আন্তর্জাতিক ওটিটি সংস্করণ ঘিরে এখন তুমুল আলোচনা চলছে। নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া আনকাট সংস্করণটিকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, সিনেমা হলের সেন্সর করা সংস্করণের তুলনায় এই ওটিটি ভার্সন অনেক বেশি সহিংস ও নির্মম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সংস্করণে যোগ করা হয়েছে দীর্ঘায়িত অ্যাকশন দৃশ্য, আরও রক্তাক্ত হামলা, হাতুড়ি দিয়ে আঘাতের বাড়তি দৃশ্য, মাথা থেঁতলে দেওয়ার মতো ভয়ংকর সহিংসতা এবং সেন্সরবিহীন গালাগাল। এমনকি কিছু দৃশ্যে শিরশ্ছেদের গ্রাফিক উপস্থাপনাও রাখা হয়েছে, যা প্রেক্ষাগৃহের সংস্করণে সংক্ষিপ্ত বা আংশিকভাবে দেখানো হয়েছিল।
Visit solvita.blog for more information.
সবচেয়ে আলোচিত সংযোজনগুলোর একটি হলো উজাইর বালোচের চরিত্রকে নিয়ে একটি দৃশ্য। থিয়েটার সংস্করণে যার কেবল ইঙ্গিত ছিল, সেখানে নেটফ্লিক্সের আনকাট সংস্করণে দেখা যায়, সে আরশাদ পাপ্পুর বিচ্ছিন্ন মাথা নিয়ে ফুটবল খেলছে। এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ছবির লিয়ারি গ্যাং ওয়ার অংশগুলোও আন্তর্জাতিক সংস্করণে আরও দীর্ঘ ও সহিংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অতিরিক্ত অ্যাকশন, অস্বস্তিকর দৃশ্য এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের নির্মম বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলতে নির্মাতারা আরও কিছু দৃশ্য যুক্ত করেছেন। অনলাইন প্রতিক্রিয়ায় অনেক দর্শকই বলছেন, নেটফ্লিক্স সংস্করণটি থিয়েটারে মুক্তি পাওয়া সংস্করণের চেয়ে অনেক বেশি ‘ডার্কার’, ‘র’ এবং ‘আনকম্প্রোমাইজিং’।
নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া আনকাট সংস্করণের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ ঘণ্টা ৫২ মিনিট, যা প্রেক্ষাগৃহের সংস্করণের তুলনায় প্রায় ৩ মিনিট বেশি। নির্মাতাদের দাবি, এই বাড়তি দৃশ্যগুলো গল্পের আবহ ও সহিংসতার মাত্রাকে আরও গভীর করেছে।
তবে ভারতীয় দর্শকদের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। আন্তর্জাতিকভাবে ছবিটি ১৪ মে নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং শুরু করলেও ভারতে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে জিওহটস্টারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় ওটিটি সংস্করণে সম্ভবত সেন্সর বোর্ড অনুমোদিত থিয়েটার কাটই দেখানো হবে। ফলে সম্পূর্ণ আনকাট সংস্করণ দেখার সুযোগ আপাতত শুধু আন্তর্জাতিক দর্শকেরাই পাচ্ছেন।
পরিচালক আদিত্য ধর নির্মিত এই অ্যাকশন ব্লকবাস্টারে অভিনয় করেছেন রণবীর সিং, অর্জুন রামপাল, আর মাধবন, সঞ্জয় দত্ত ও সারা অর্জুন।
‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম কিস্তি গত বছর মুক্তি পেয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। বিশেষ করে খল চরিত্রে অক্ষয় খান্নার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। তাঁর তীব্র উপস্থিতি এবং জটিল চরিত্র নির্মাণ ছবির অন্ধকার জগৎকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছিল।
এখন দ্বিতীয় কিস্তি মুক্তির পর ফ্র্যাঞ্চাইজিটির জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, দুটি ছবির সম্মিলিত বৈশ্বিক আয় ইতিমধ্যে ৩ হাজার ১০০ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে সফল ভারতীয় অ্যাকশন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে ‘ধুরন্ধর’।
ওটিটিতে আনকাট সংস্করণ ঘিরে বিতর্ক ও আলোচনা চললেও ভারতের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে এখনো ছবিটির সফল প্রদর্শনী চলছে। বিশেষ করে উচ্চমাত্রার অ্যাকশন, আবেগঘন গল্প এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডভিত্তিক নির্মাণশৈলীর কারণে দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখতে পেরেছে ছবিটি।
নিউজ ১৮ অবলম্বনে
